নেত্রকোনায় টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি প্রদান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

নেত্রকোনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসের একটি সংঘবদ্ধ চক্র নির্দিষ্ট অংকের অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দিচ্ছে। স্থানীয় তদন্তে উঠে আসা এসব তথ্য জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জান্নাত বেগম নামে এক ব্যক্তির এনআইডি তৈরি করা হয়েছে যেখানে পিতার নাম মো. আব্দুল হাসিম এবং মাতার নাম মোসাঃ আনজু উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নেত্রকোনা সদর উপজেলার পুকুরিয়া গ্রাম। তবে আব্দুল হাসিমের পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তাদের সংসারে জান্নাত বেগম নামে কোনো সন্তান নেই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলী নূরও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ওই দম্পতির একমাত্র কন্যার নাম স্নিগ্ধা আক্তার হাসি; জান্নাত বেগম নামে কেউ তাদের পরিচয় ব্যবহার করে থাকলে তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এনআইডি তৈরিতে ব্যবহৃত জন্মনিবন্ধনটির কোনো অস্তিত্ব সরকারি সার্ভারে নেই। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য একটি জন্মনিবন্ধন স্ক্যান করে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে এটি তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফরম-২ যাচাই করে দেখা গেছে, এতে ব্যবহৃত শনাক্তকারী, সুপারভাইজার ও যাচাইকারীর এনআইডি নম্বরগুলোও ভুয়া।

নির্বাচন অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছে, জান্নাত বেগম মূলত একজন রোহিঙ্গা এবং তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সাথে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সিহাব উদ্দিন এবং অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, একইভাবে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি এনআইডি কার্ড অবৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সিহাব উদ্দিন বলেন, ভোটার হালনাগাদের সময় জান্নাত বেগম ভোটার হয়েছেন। বিপুল পরিমাণ এনআইডি আলাদাভাবে যাচাই করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সাথে তিনি কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের কথা অস্বীকার করেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে এবং যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো রোহিঙ্গা নাগরিককে এনআইডি পেতে সহযোগিতা করা হয়েছে, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য যে, নেত্রকোনায় রোহিঙ্গাদের ভুয়া কাগজপত্র তৈরির ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর মোহনগঞ্জে ১৩ রোহিঙ্গার জন্মনিবন্ধন তৈরির অভিযোগে এক কম্পিউটার দোকানদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কলমাকান্দা এলাকাতেও অর্থের বিনিময়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *