খালেদা জিয়ার আদর্শ ও ধৈর্যই দেশের অগ্রগতির পথ: রুহুল কবির রিজভী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, অসীম ধৈর্য ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে সকল সংকট মোকাবিলা করে খালেদা জিয়া দেশের মানুষের পাশে ছিলেন। তাঁর দেখানো আদর্শ অনুসরণ করলেই দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শনিবার (০৩ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত এক শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

রিজভী তাঁর বক্তব্যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের যে ভিত্তি গড়েছিলেন, খালেদা জিয়া সেই ধারাকে আরও সুসংহত করেছেন। বাকশালের মাধ্যমে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করার যে সংস্কৃতি একসময় ছিল, তা থেকে দেশকে মুক্ত করার কৃতিত্ব জিয়ার এবং সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন খালেদা জিয়া। ফলে সংবাদকর্মী ও লেখক সমাজের সঙ্গে তাঁর এক অবিচ্ছেদ্য ও গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের ডাকে সাড়া দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়েছিলেন। এটি সংবাদপত্রের জগতের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধারই প্রমাণ। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্বকে ‘মহীরুহ’ হিসেবে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, তাঁর ইন্তেকালের পর জানাজায় যে জনস্রোত দেখা গিয়েছিল, তা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আহ্বানে নয়, বরং সাধারণ মানুষের অন্তরের টানেই সৃষ্টি হয়েছিল। সেই দৃশ্যকে তিনি ইমাম খোমেনির জানাজার পরবর্তী এক বিশাল সমাবেশ হিসেবে তুলনা করেন।

রাজনৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলী প্রসঙ্গে রিজভী উল্লেখ করেন, ১/১১ পরবর্তী সময়ে এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ক্রান্তিকালে খালেদা জিয়া প্রকৃত জাতীয়তাবোধের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্র ও সেনাবাহিনী—উভয়কেই তিনি সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন এবং কখনো কোনো উসকানিতে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেননি। এমনকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের বিপরীতে তিনি সবসময় সৌজন্য ও নীরবতার মাধ্যমে জবাব দিয়েছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক উচ্চতার পরিচয় দেয়।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রিজভী অভিযোগ করেন, বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে থাকাকালীন পরিকল্পিতভাবে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশ-বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে সেই অধিকার দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, শত প্রতিকূলতা ও তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টার মধ্যেও তিনি ছিলেন অটল।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। বক্তারা খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশ গঠনে তাঁর অবদানকে চিরস্মরণীয় বলে উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *