আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বহুল কাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দীর্ঘ লড়াইয়ের একটি সুষ্ঠু পরিসমাপ্তি হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ বহু বছর পর তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে একটি জনকল্যাণমুখী সরকার গঠন করতে পারবে।
রোববার (০৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে দলের নির্বাচনী অফিসে বিএনপির নবগঠিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান জানান, সভায় কমিটির সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে উদ্বুদ্ধ করা এবং দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন তৈরিতে বিএনপি সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি সবসময়ই দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে কারণ কেবল একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও কেবল সেই উদ্দেশ্যে নির্বাচন চায় না; বরং দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই দলের মূল লক্ষ্য।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আমলের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি বলেন, এবারও দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৫ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারকে বিদায় করা সম্ভব হয়েছে। এখন একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রচলিত আইনে মনোনয়ন বাতিল হতে পারে এবং সেখানে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কারও মনোনয়ন বাতিলের জন্য বিএনপি কোথাও কোনো অনুরোধ করেনি। এছাড়া ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত নথিপত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সমন্বয়ক ইসমাইল জবিহউল্লাহ এবং মুখপাত্র ড. মাহাদী আমিন উপস্থিত ছিলেন। ড. মাহাদী আমিন বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন বজায় থাকবে।
এখন দেখার বিষয়, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।



