দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সবশেষ সমন্বয় অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা। বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, এই বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকারকে নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস, যা ৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে আবারও দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েকদিনেই এ নিয়ে মোট ৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ৩ বার দাম বেড়েছে এবং ২ বার কমেছে। উল্লেখ্য যে, গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে রেকর্ড ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বারই দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছিল। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের অস্থিরতার প্রভাবে স্বর্ণের দামে এমন ঘনঘন পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরবর্তী বাজার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বাজুস পুনরায় দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।



