আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন নির্বাচনী মোর্চা ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই সমঝোতার আওতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯টি আসনে লড়বে বলে জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই নির্বাচনী রূপরেখা ও প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ১০টি দল নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছে। যদিও এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে ‘১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। এই ঐক্যের প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে লড়বে। বাকি আসনগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে। এ ছাড়াও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২ টি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে শরীক দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো প্রার্থী না দিলেও তারা এই ঐক্যের সঙ্গেই থাকছে।
ঘোষিত ২৫৩টি আসনের বাইরে বাকি ৪৭টি আসন বর্তমানে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মূলত এই আসনগুলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। দলটির সঙ্গে শুরু থেকে আলোচনা চললেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। দলভিত্তিক আসন সংখ্যা ঘোষণা করেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জোট ভাঙেনি, জোট আছে। কোনো একটা দল যে কারণেই হোক একমত হলো না, এর মানে তো জোট ভাঙা নয়। এটি আসলে প্রথাগত জোট নয়, বরং একটি নির্বাচনী ঐক্য।” তিনি আরও জানান, ইসলামী আন্দোলন সূচনা থেকেই তাদের সঙ্গে ছিল এবং দলটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তারা নিজেদের মধ্যে আরও কিছু বোঝাপড়া করছে এবং জামায়াত আশা করছে তারা শেষ পর্যন্ত এই ঐক্যের সঙ্গেই থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ১০টি দলের শীর্ষ নেতারা একে অপরের হাত ধরে ওপরে তুলে ধরে ঐক্যের সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে সভাকক্ষ মুখরিত করে তোলেন। কিছু আসন এই ঐক্যের বাইরে উন্মুক্ত রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে।



