ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকায় স্থানীয় নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দাদের আয়োজিত সভায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সভায় কোনো ব্যানার, ফেস্টুন বা মাইক ব্যবহার করা হয়নি। রুমিন ফারহানা সভাস্থলে পৌঁছালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুমিন ফারহানা আঙুল উঁচিয়ে ম্যাজিস্ট্রেটকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “দিস ইজ দ্য লাস্ট টাইম আই ওয়ার্ন ইউ। আই উইল নট লিসেন টু দ্যাট।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করলে রুমিন ফারহানা পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, “সব জায়গায় হচ্ছে। আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়, তখন কিছু বলেন না।” তিনি আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আঙুল তুলে বলে গেলাম, ভবিষ্যতে আর শুনবো না। আমি যদি না বলি, এখান থেকে বের হতে পারবেন না। মাথায় রাখবেন। আমি রুমিন ফারহানা, কোনো দল লাগে না।”
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৫-এর ১৮ ধারা অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এতে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুমিন ফারহানার সমর্থক মো. জুয়েলকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়া হাসান খান জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘন হওয়ায় প্রার্থীকে সভাস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল, যার ফলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন, “আমি আশা করব এ নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশ নিরপেক্ষ আচরণ করবে। কোনো পক্ষ হয়ে কাজ করবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও সেখানে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।” এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।



