ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেত্রী রুমিন ফারহানাকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি প্রদানের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এই আদেশ দেওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ জানুয়ারি বিকেলে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামে রুমিন ফারহানা বড় স্টেজ নির্মাণ করে এবং ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে নির্বাচনী জনসভা করেন। সেখানে মাইক ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করা হয়, যা নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর পরিপন্থী। এই খবর পেয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হয়ে সমাবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিলে রুমিন ফারহানা তাঁর সাথে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুমিন ফারহানা ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন রকম হুমকি প্রদান করেন এবং এক পর্যায়ে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বলেন, “আমি যদি না বলি এখান থেকে বের হতে পারবেন না, মাথায় রাইখেন। আজকে আমি আঙ্গুল তুলে বলে গেলাম ভবিষ্যতে শুনব না।” এ সময় তাঁর সাথে থাকা কর্মীরাও মারমুখী আচরণ করেন এবং জনসমাগম (মব) সৃষ্টি করে বিচারিক কাজে বাধা প্রদান করেন বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জারি করা নোটিশে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে অথবা তার আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ঘটনার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানে ব্যর্থ হলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি (সরাইল ও আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগরের দুটি ইউনিয়ন) বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। দলীয় এই সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানাকে ইতিমধ্যেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।



