আজ ১৯ জানুয়ারি, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ এবং মাতা জাহানারা খাতুন রানী। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়, যাঁর ডাকনাম ছিল ‘কমল’।
জিয়াউর রহমান ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি অন্যতম সেক্টর কমান্ডার হিসেবে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে গঠিত হয় বিশেষ ‘জেড ফোর্স’। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন এবং পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি নিজ রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন।
সাবেক এই রাষ্ট্রপতির জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষে দুই দিনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিএনপি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের মাজারে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন। এ ছাড়া সারাদেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আগামীকাল ২০ জানুয়ারি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স-বাংলাদেশ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমানকে একজন ‘স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসেবে জিয়াউর রহমান দেশবাসীর কাছে সমাদৃত। মুক্তিযুদ্ধের কঠিন সময়ে তিনি দেশ ও জাতির জন্য দিশারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন।



