আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ ও ভারতের প্রভাব উন্মোচন করল উইজডেন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যকার সম্পর্ক ও নীতি-নৈতিকতা নিয়ে এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে জনপ্রিয় ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন। সেখানে দেখানো হয়েছে, কীভাবে অর্থনৈতিক শক্তির জোরে ভারত আইসিসির ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে এবং বিপরীতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

সম্প্রতি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আয়োজক দেশ পাকিস্তানে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইসিসি ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে সরিয়ে নেয়। একইভাবে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলকেও ভারতে যেতে হচ্ছে না; তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে।

তবে সংকটের নতুন মোড় ঘোরে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলেও আইসিসি তা সাফ জানিয়ে দেয় যে, বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে। গত ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় যে তারা ভারতে খেলবে না। এর ফলে আইসিসি বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ করে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেয়।

উইজডেন তাদের প্রতিবেদনে আইসিসির এই ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ বা দ্বিমুখী নীতির প্রশ্ন তুলেছে। সাময়িকীটি উল্লেখ করেছে, ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিন মাস সময় পেলেও বাংলাদেশের হাতে সময় ছিল মাত্র এক মাস। উইজডেনের মতে, ভারত তাদের অর্থনৈতিক শক্তির কারণে আইসিসি টুর্নামেন্টকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা তারা পাকিস্তানে না যাওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় এবং আত্মসম্মানের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিলেও আইসিসি তাদের প্রতি কোনো নমনীয়তা দেখায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিসিসিআই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে শুধু ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা বললেও মূলত এটি ছিল একটি রাজনৈতিক বার্তা। বাংলাদেশ নিজেদের নীতিতে অটল থাকার কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে। উইজডেনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইসিসি এখন নীতি-নৈতিকতার চেয়ে ভারত তোষণে বেশি ব্যস্ত। ভারতের আগ্রাসী ও সর্বগ্রাসী আচরণের সামনে বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপাগল দেশগুলোর পক্ষে নিজেদের অবস্থানে রুখে দাঁড়ানোই এখন একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *