সদ্য অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী গণভোটের ফলাফলে বড় ধরনের পরিসংখ্যানগত গরমিল ও অস্বাভাবিক ভোট কাস্টিংয়ের তথ্য সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহী-৪ আসনে ভোট প্রদানের হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৪.২৯৫ শতাংশ, যা স্বাভাবিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার হিসেবে নজিরবিহীন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। অথচ কমিশনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সেখানে ভোট কাস্ট হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার ৫২৩টি। এই আসনে ‘না’ ভোটের পক্ষে পড়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার ২২৯ ভোট এবং ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে পড়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮২ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবদুল বারী সরদার।
জাতীয়ভাবে প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, গণভোটে প্রায় ৬২.৪৭ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২৯.৩২ শতাংশ ‘না’ ভোট পড়েছে। অধিকাংশ আসনে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেও রাজশাহী-৪ সহ মোট ১১টি আসনে ‘না’ ভোট জয়ী হয়েছে। তবে রাজশাহী-৪ আসনের এই অস্বাভাবিক পরিসংখ্যান নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
গণমাধ্যম ‘দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’ (টিবিএস)-এর প্রতিবেদনে এই অসংগতির বিষয়টি উঠে আসে। এই অস্বাভাবিক উচ্চ হারের ভোট কাস্টিংয়ের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই একে নির্বাচনী কারচুপির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করছেন এবং পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন বলে আলোচনা চলছে।
এই পরিসংখ্যানগত গোলকধাঁধা এবং অস্বাভাবিক ভোট কাস্টিংয়ের নেপথ্যে কোন পক্ষ বা রাজনৈতিক শক্তি জড়িত, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখন ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা চলছে।



