ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে লড়বেন নাকি আগের মতো নির্দলীয়ভাবে অংশ নেবেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
বর্তমান সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিধান রাখা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার তথা সংসদ সদস্যদের ওপর বর্তাবে। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বর্তমান বিধান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, একটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আপাতত দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর এই বিল বা অর্ডিন্যান্সটি যদি রেটিফাই বা অনুমোদন পায়, তবে সেই অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি সংসদ পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে নির্বাচনের পরিস্থিতি ভিন্ন হবে। কমিশন মূলত সংসদ অধিবেশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন নিয়ে এই কমিশনার জানান যে, এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া কার্যত শুরু হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো যাদের মনোনীত করবে, বিধি মোতাবেক তারাই নির্বাচিত হবেন। ইতোমধ্যে দলগুলো এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত এই সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করবে বলে আশ্বস্ত করেছে।



