ভূ-রাজনীতি ও পেশাদারিত্ব: কেন খলিলুর রহমানকে বেছে নিল বিএনপি সরকার?

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানকে নতুন বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার এই নিয়োগ রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খলিলুর রহমানের এই নতুন পরিচয় যেমন দলটির অনেক নেতাকর্মীকে অবাক করেছে, তেমনি বিরোধী দলগুলোও এই নিয়োগের কড়া সমালোচনা করছে।

বিএনপির ভেতরেই কেউ কেউ এই নিয়োগকে কিছুটা বিব্রতকর বলে মনে করছেন। বিশেষ করে গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকাকালীন খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে সমালোচনা ছিল, সেটিকেই এই অস্বস্তির কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতা মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে একজন দক্ষ ও পেশাদার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রয়োজন ছিল। সেই জায়গা থেকে খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাবেক এই কূটনীতিকের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটের কথা সামনে আনছে। তাদের মতে, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে যখন অন্তর্বর্তী সরকার নানা চাপের মুখে ছিল এবং বিএনপি নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিচ্ছিল, তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সেই বৈঠকে খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, সেই সময় থেকেই বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক নতুন করে ঝালাই হয়।

ঐতিহাসিকভাবেও বিএনপির সঙ্গে খলিলুর রহমানের একটি পুরনো সম্পর্কের কথা জানা যায়। ২০০১ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই সময় থেকেই দলটির নেতৃত্বের সঙ্গে তার একটি পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির অনুকূলে ভূমিকা রাখতে পেরেছিলেন—এমন একটি ধারণা দলটির শীর্ষ পর্যায়ে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। মূলত পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগের সমন্বয়ই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে সহায়তা করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *