আসিফ মাহমুদের মেয়াদে ক্রীড়া ফেডারেশনে অনিয়ম ও অযোগ্যদের দাপটের অভিযোগ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে মাঠের সাফল্যের চেয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে প্রশাসনিক অন্দরমহলের অনিয়ম ও ক্ষমতার টানাপোড়েন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনের ভেতরে নানা অভিযোগ ও অদৃশ্য প্রভাবের চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সময়কালে একাধিক ফেডারেশনে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং অযোগ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতির বিষয়টি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের মেয়াদে ফেডারেশনগুলোর কমিটি গঠনে একটি অদৃশ্য নেটওয়ার্ক কাজ করত। এক্ষেত্রে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্টাফ মাহফুজ আলম এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলামের নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটি বিভিন্ন ফেডারেশনে কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ব্যক্তিগত যোগাযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেনের সমন্বয় অনেক সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক এই অনিয়মের ক্ষেত্রে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আমিনুল ইসলাম এবং বর্তমান পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসানের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক অনুমোদন ও তাদের সমর্থন ছাড়া কোনো ফেডারেশনের কমিটি পরিবর্তন বাস্তবসম্মত ছিল না। ফলে এই পুরো প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের মদদ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফেডারেশনগুলোর বর্তমান চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ক্রীড়া প্রশাসনে অত্যন্ত সীমিত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে বসানো হয়েছে। এতে একদিকে যেমন মনোনয়ন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না, অন্যদিকে প্রকৃত খেলোয়াড় ও অভিজ্ঞ কোচদের মতামতও গুরুত্ব পায়নি। ফলে ক্রীড়া ফেডারেশনগুলো খেলাধুলার উন্নয়ন কেন্দ্রের বদলে প্রশাসনিক ক্ষমতার বলয়ে পরিণত হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচন-পরবর্তী এই সময়ে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। অনেক ফেডারেশনে পদত্যাগ ও নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসংগতি নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন—কোন কারণে এই অস্থিরতা, তা নিয়ে মতভেদ থাকলেও ক্রীড়াঙ্গনের সাধারণ মানুষ এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করছে। বাংলাদেশের ক্রীড়া প্রশাসন বর্তমানে যে সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে প্রকৃত সংস্কারের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *