ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় ঢাকা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই বর্ণাঢ্য শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে সাক্ষী হতে প্রায় ১,২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি উপস্থিত থাকবেন। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসারের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম ভেঙে এবার বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত স্থানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র মতে, শপথ অনুষ্ঠানের দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন। এরপর সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের পর বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ হবে। একই দিনে সংসদ সদস্যরা নবগঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথক শপথ গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
দুই যুগ পর বিএনপির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফেরার এই আয়োজনে তিন বাহিনীর প্রধান, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট নাগরিকদের উপস্থিতিতে সংসদ ভবন এলাকা জুড়ে এখন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সরকারের যাত্রা ঘিরে সারা দেশের মানুষের মধ্যে এক বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।



