মেজর (অব.) মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই হবে, সীমান্তে কাঁটাতার ও পুশইন প্রতিরোধে কঠোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, একই অপরাধে একজন ব্যক্তির দুই ভিন্ন আইনে বিচারের সুযোগ নেই। এ কারণেই তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই তার বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হবে।

সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সদরদপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যান্য আসামিদের বিচার সামরিক আাদালতেই শেষ হয়েছে। মোজাফফর হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার বিচার বাকি ছিল। বিচারে যদি কোনো সিভিল কোর্টের প্রাসঙ্গিক বিষয় যুক্ত থাকে, তবে তা আইনগতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। এ ছাড়া পূর্বে দণ্ডিতদের রায়ে মোজাফফরের বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে তা সেনা আদালত বিবেচনায় নেবে।

পিলখানা সফরকালে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ওপার থেকে আসা সংঘাতের প্রভাব, মাদক পাচার ও নিরাপত্তাশঙ্কা মোকাবিলায় মিয়ানমার সীমান্তে ১০৯ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। প্রস্তাবটি এখনও চূড়ান্ত না হলেও সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিগত সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভারত থেকে কথিত ‘পুশইন’ চেষ্টার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনো অবৈধ প্রবেশ ঘটার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে প্রকৃতপক্ষে কেউ বাংলাদেশি নাগরিক হলে ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক মাধ্যমে তালিকা দেওয়া হলে জাতীয়তা যাচাই সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে; এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর বিজিবি সদরদপ্তরে এটিই তার প্রথম পরিদর্শন। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তি, সরঞ্জাম, অস্ত্র এবং জনবল বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে ডগ স্কোয়াডের ব্যবহারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন স্কোয়াড গড়ে তোলা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আপাতত বিজিবির বিদ্যমান ডগ স্কোয়াডকেই মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।