হিমালয়কন্যা নেপালে সাম্প্রতিক সময়ের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় চলমান ত্রাণ, পুনর্বাসন ও মানবিক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ১০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা) অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এই অর্থ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দুর্যোগ ত্রাণ তহবিলের জন্য প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে উদ্দেশে লেখা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের একটি বিশেষ চিঠি নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। হস্তান্তরকালে এই মানবিক সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নেপাল দূতাবাসে গিয়ে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এছাড়া নেপালের এই মর্মান্তিক দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করে গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও একটি শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। বাংলাদেশের দেওয়া এই আর্থিক অনুদান নেপালের দুর্গত এলাকায় চলমান উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কাজে ব্যয় করা হবে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৫২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২১৬ জন মানুষ, আর উদ্ধারকারী দল প্রায় ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে একটি বড় ধরনের হিমবাহ ধসের পর ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এই বন্যার পানি, তীব্র কাদা ও পাথরের স্রোত মুহূর্তেই রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা ও চিতওয়ানসহ একাধিক বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, বন্যা ও ভয়াবহ কাদাধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে আনুমানিক ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমা হয়েছে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং একাধিক জলবিদ্যুৎকেন্দ্র লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে।



