ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ: উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি ও সৌদি আরবের ‘নিরপেক্ষ’ থাকার প্রাণপণ চেষ্টা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মুখে এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বিশেষ করে সৌদি আরব এই হামলার মাত্রা ও সময় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। রিয়াদের আশঙ্কা, এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে পুরো অঞ্চল একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়বে।

যুবরাজ সালমানের জরুরি উদ্যোগ:

সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’ জানিয়েছে, শনিবার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন। তার মূল বার্তা ছিল— ইরানের পাল্টা হামলার তীব্রতা প্রত্যাশার চেয়ে কম, তাই এমন কিছু করা যাবে না যাতে তেহরান আরও উত্তেজিত হয়ে বড় কোনো হামলা চালায়।

মিত্রদের মধ্যে ভিন্ন সুর:

সৌদি আরব নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) কিছুটা কঠোর অবস্থানে। আমিরাতি প্রতিমন্ত্রী রিম আল হাশিমী ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তারা নিজেদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারে। অন্যদিকে, কাতার শুরুতে সংযমের কথা বললেও সোমবার তাদের সুর বদলে গেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজিদ আল-আনসারি অভিযোগ করেছেন, কাতার ১০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে এবং ইরানকে এর জন্য ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।

হুথি আতঙ্ক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা:

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ভয় হলো ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী। রিয়াদের ধারণা, তারা যদি ইরান-বিরোধী ফ্রন্টে সরাসরি যোগ দেয়, তবে হুথিরা আবারও লোহিত সাগর ও সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা প্রকাশ করে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করেছেন এই বলে যে, “এটি আপনাদের যুদ্ধ নয়, ইসরায়েলের পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।”

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই অভ্যন্তরীণ মতভেদ ও নিরাপত্তা শঙ্কা প্রমাণ করে যে, ইরানের পাল্টা আঘাত এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে কতটা জটিল ও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *