মাহে রমজান মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত লাভের এক বসন্তকাল। এই পবিত্র মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে সিক্ত থাকলেও শেষ দশকটি অত্যন্ত মর্যাদা ও তাৎপর্যপূর্ণ। এই দশকেই নিহিত রয়েছে হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত ‘লাইলাতুল কদর’। আর এই বিশেষ ফজিলত অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো ইতিকাফ।
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো নিজেকে সব ধরনের পার্থিব চিন্তা ও ব্যস্ততা থেকে মুক্ত করে একমাত্র আল্লাহমুখী করা। সাধারণ জীবনে মানুষ যখন সংসার, ব্যবসা ও নানা দুশ্চিন্তায় নিমগ্ন থাকে, ইতিকাফ তখন তাকে আল্লাহর ঘরে নিভৃতে ইবাদতের সুযোগ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইতিকাফের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন এবং প্রতি বছর রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে অবস্থান করতেন।
হাদিস শরিফে ইতিকাফকারীর জন্য অগণিত ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, রমজানের শেষ দশকে যে ব্যক্তি ইতিকাফ করবে, সে দুটি হজ অথবা ওমরার সওয়াব লাভ করবে। এছাড়াও ইমান ও সওয়াবের আশায় ইতিকাফকারীর পূর্বের সকল (সগিরা) গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ইতিকাফের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকেও মুক্তির পথ সুগম হয়। বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তার ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে দুই দিগন্তের চেয়েও বেশি দূরত্বের তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন। ব্যস্ত জীবনের শত প্রতিকূলতার মাঝেও লাইলাতুল কদরের বরকত ও আত্মশুদ্ধি অর্জনে মুমিনদের জন্য ইতিকাফ একটি মহামূল্যবান সুযোগ।



