ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি করতে চায় না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই এবং অতীতেও তেমনটি করা হয়নি।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পবিত্র বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিদেশের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা সুজন মাহমুদ বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী ‘অহিংসা’ ও ‘পঞ্চশীল’ নীতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা ও মাদক থেকে বিরত থাকার যে শিক্ষা গৌতম বুদ্ধ দিয়ে গেছেন, তা প্রতিটি মানুষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকরা যদি ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেন, তবে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। আমাদের নীতি হচ্ছে— ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি-অবাঙালি, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে।” তিনি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু ভাববেন না। রাষ্ট্র আমাদের সবার, আমাদের পরিচয় আমরা ‘বাংলাদেশি’।”

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবার মিলিত রক্তস্রোতে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমেই সব ধর্মের মানুষের নিবিড় সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দিপেন দেওয়ানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট ও বুদ্ধমূর্তির প্রতিবিম্ব তুলে দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *