চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার মেঘদাইর গ্রামে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. হুমায়ুন গাজীর প্রতারণার জালে ফেঁসে প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে এখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন গ্রামের অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ।
অভিযুক্ত হুমায়ুন গাজী উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের দারাশাহী তুলপাই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মালদ্বীপে থাকার সুবাদে এলাকায় ‘আদম বেপারি’ হিসেবে পরিচিতি পান এবং সহজ-সরল গ্রামবাসীদের মালদ্বীপে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে মাথাপিছু দুই লাখ টাকা করে আদায় করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথমে মেঘদাইর গ্রামের ইয়াছিন মিয়ার ছেলে শাকিবুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর নামে এনজিও থেকে ঋণ করা এবং সুদে আনা মোট দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন হুমায়ুন। এরপর ভিসা ও টিকিট হয়ে গেছে এমন সাজানো খবর ছড়িয়ে গ্রামের নয়ন হোসেন, আব্দুল্লাহ ও মঞ্জির হোসেনসহ আরও অনেকের কাছ থেকে সমপরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কাউকেই বিদেশ পাঠানো হয়নি।
ভুক্তভোগীদের চাপের মুখে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসলে তিনশ টাকার স্ট্যাম্পে তিন কিস্তিতে টাকা ফেরতের লিখিত সিদ্ধান্ত হয়। তবে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে ভুক্তভোগীরা কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মো. মোর্শেদুল আলম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়ায়। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলহাজতে থাকার সময় আইনজীবীর মাধ্যমে আপসের প্রস্তাব দিয়ে কিছু টাকা পরিশোধ করে জামিনে মুক্তি পান হুমায়ুন। এরপর বাকি টাকা না দিয়েই তিনি পুনরায় মালদ্বীপে পালিয়ে যান।
বর্তমানে মালদ্বীপে বসে হুমায়ুন গাজী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে মানহানির চেষ্টা করছেন বলে ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হুমায়ুন গাজী জানান, তিনি বেশিরভাগ টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং তাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই করিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।



