হজযাত্রীদের সেবায় অবহেলা বরদাশত করা হবে না, কড়া হুঁশিয়ারি ধর্মমন্ত্রীর

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

হজযাত্রীদের সেবায় দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা হজযাত্রীদের সেবায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিএ/ডিএ সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হবে।

সৌদি আরবে বাংলাদেশ হজ মিশনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পবিত্র হজের সার্বিক প্রস্তুতি ও কার্যক্রম তদারকি করতে বুধবার রাতে মক্কা পৌঁছান তিনি। মক্কায় পৌঁছেই তিনি সরাসরি বাংলাদেশ হজ মিশনে যান এবং সেখানে অবস্থানরত সাধারণ হজযাত্রীদের খোঁজখবর নেন।

পরবর্তীতে ধর্মমন্ত্রী হজ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে তিনি হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহণ, চিকিৎসাসেবা, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সেবামূলক কার্যক্রমের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। এ সময় তিনি আল্লাহর মেহমানদের সেবায় আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কঠোর নির্দেশনা দেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় যাত্রীদের সর্বোচ্চ স্বস্তি ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকার আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে। বিমানে আসার সময় অনেক হজযাত্রীই সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় এবার প্রথমবারের মতো হজযাত্রীদের জন্য বিশেষ পানি সরবরাহ ও উন্নত লাগেজ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাজিরা বিমান থেকে নামার পর হজ ক্যাম্পে তাদের লাগেজ গ্রহণ, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত হোটেল রুম পর্যন্ত মালামাল পৌঁছে দিতে গাইডদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ধর্মমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতীতের তুলনায় এবারের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি সেবাকেন্দ্রিক করা হয়েছে। হজ শুরু হওয়ার আগেই অধিকাংশ প্রার্থীর ভিসা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কিছু এজেন্সির কারণে সাময়িক সামান্য জটিলতা তৈরি হলেও তা দ্রুত সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

লাগেজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরুর দিকে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তীতে সৌদি সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় সেই সংকটের সমাধান হয়েছে। দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য তিনি সৌদি সরকারের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সবশেষে ধর্মমন্ত্রী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, মহান আল্লাহ যেন আরাফাতের দিনটি সুন্দরভাবে কবুল করেন এবং সব হজযাত্রী যেন মনোযোগের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি সম্পন্ন করতে পারেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আল্লাহর মেহমানদের খেদমত করার তৌফিক যেন সরকার পায়, সেই প্রার্থনা করেন তিনি।