ফারাক্কার প্রভাবে ২৪ জেলা মরুকরণের সংকটে, পদ্মা ব্যারেজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনায় জোর সরকারের: পানিসম্পদ মন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের তিন ভাগের এক ভাগ অঞ্চল অর্থাৎ প্রায় ২৪ থেকে ২৬টি জেলা এবং প্রায় ৭ কোটি মানুষ আজ মরুভূমির মতো চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এই ভয়াবহ সংকট থেকে দেশকে উদ্ধার করতে বর্তমান সরকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে বিশেষ জোর দিয়েছে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘জাতীয় নদী দিবস’ উপলক্ষে নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিস্তা ব্যারেজ ও মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা আমাদের আইনি ও নৈতিক অধিকার। বিগত তিন মাস মন্ত্রণালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, এই প্রকল্প নিয়ে অতীতে যে ধরনের বাস্তবমুখী কাজ হওয়া দরকার ছিল, তা এখনো সমাপ্ত হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে এই কাজ শুরু করতে হয়েছে।

তিনি জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি সহযোগী সংস্থা আইডব্লিউএম, সিইজিআইএস এবং ওয়ারপো গত তিন মাস ধরে তিস্তা অঞ্চলে মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও সামগ্রিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কোন প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিস্তা পাড়ের পাঁচ জেলার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নই এই মেগা প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

এদিকে স্থবির হয়ে থাকা পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পদ্মা ব্যারেজের প্রাথমিক সমীক্ষা শুরু হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এটি ফাইলবন্দি ও স্থবির থাকার পর বর্তমান সরকার নতুন করে এর যাত্রা শুরু করেছে। কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দলের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ সমুন্নত রেখে এই প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হবে।

ভারতের সঙ্গে পানির হিস্যা ও গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ১০ দিন পর পর পানির প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উজানে ও ভাটিতে পানির পরিমাপের ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) ও কারিগরি দল নিয়মিত কাজ করছে। এর অংশ হিসেবে গত পরশু দিনও বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল ভারতের কলকাতায় গিয়ে ফারাক্কা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সম্পন্ন করেছে। তাদের দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে মন্ত্রী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। অতি সম্প্রতি পল্লবীতে ঘটে যাওয়া শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই আইনি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপে ফেলতে প্রতিনিয়ত মব বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

সাবেক রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ পুনর্গঠনে মাত্র তিন মাস সময় পর্যাপ্ত নয়। এই ক্রান্তিকালে সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না করে বিভিন্ন অশালীন বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানো সচেতন জাতি কখনো প্রত্যাশা করে না।

তিনি মনে করিয়ে দেন যে, সুস্থ রাজনীতিতে শৃঙ্খলা ও শালীনতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কথায় কথায় রাস্তা অবরোধ বা অগণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি আদায়ের সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। যেকোনো ভুলত্রুটি বা দাবি আলোচনার টেবিলে সমাধান সম্ভব উল্লেখ করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এবং দেশের নদীগুলোকে বাঁচাতে মন্ত্রী সাংবাদিকসহ দেশের সচেতন সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।