হজের ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পবিত্র হজ পালনের সামগ্রিক ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। সরকার ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের জন্য একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, মানবিক ও প্রবাসীবান্ধব হজ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে এবং এটি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের টেবিলে উত্থাপিত একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর জবাবে উল্লেখ করেন, হজ মূলত একটি দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা, যা রাজকীয় সৌদি সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়। হজের ব্যয় মূলত দুটি অংশে বিভক্ত থাকে, যার প্রায় তিন-চতুর্থাংশ খরচ সৌদি আরব পর্বের এবং এটি সম্পূর্ণ সৌদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে মিনা ও আরাফাতের তাঁবু ভাড়া, পরিবহন ব্যবস্থা, মিনা-আরাফাত ও মুজদালিফার সার্ভিস খরচ, মক্কা-মদিনার হোটেল ভাড়া, কোরবানি এবং ভিসা-ইন্স্যুরেন্স ফিসহ অন্যান্য ফি অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে মোট ব্যয়ের মাত্র এক-চতুর্থাংশ খরচ হয় বাংলাদেশ অংশে, যার বড় অংশই মূলত বিমান ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়ে থাকে।

ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি বছর কোরবানিসহ সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে সৌদি আরব পর্বের ব্যয় ছিল ৩ লাখ ৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ পর্বের ব্যয় ছিল ১ লাখ ৬৬ হাজার ৩৬৯ টাকা, যার ভেতর বিমান ভাড়াই ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩০ টাকা।

এর আগে গত বছর সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ছিল ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা। সেই তুলনায় বর্তমান সরকার চলতি বছর হজের খরচ ১১… হাজার ৭৫ টাকা কমাতে সক্ষম হয়েছে, যার সরাসরি সুফল হজযাত্রীরা পেয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সৌদি সরকারের ঘোষিত ব্যয় বিবেচনা করে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে আগামী বছরের হজ প্যাকেজ মূল্য আরও কমাতে বা যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।