দেশের পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে ডিজিটাল জালিয়াতি রোধ এবং পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল অবৈধভাবে পরিবর্তন বা এ সংক্রান্ত সংগঠিত চক্র তৈরি করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্স—সংশোধন) অ্যাক্ট’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মূলত ১৯৮০ সালের বিদ্যমান আইনটিকে বর্তমান যুগের প্রযুক্তির ব্যবহার ও ডিজিটাল অপরাধের কথা মাথায় রেখে সময়োপযোগী ও সংশোধন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরীক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো অপরাধ ও অনিয়ম কঠোর দণ্ডের আওতায় আসবে।
একই বৈঠকে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। ১৮৬৭ সালের পুরোনো আইনটিকে যুগোপযোগী করে তৈরি এই খসড়ায় ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন জুয়া, বাজি ধরা এবং ম্যাচ বা স্পট ফিক্সিংয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এতে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।
তাছাড়া মাদক পাচারের পরিবর্তিত ধরন ও সাইবার স্পেসে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ দমন করতে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই আইনের অধীনে মাদক অপরাধ দমনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, প্রযুক্তিনির্ভর সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং সীমান্ত এলাকায় মাদক শনাক্তকরণে ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে বৈঠকে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০০১ সালে অনুমোদিত বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইনটি কার্যকর না হওয়ায়, বর্তমান বাস্তবতায় সেটিকে পরিবর্তন করে চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল ও কলাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখার সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই নতুন খসড়া আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।



