দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার বৈষম্য দূর করতে আগামীতে সারা দেশের সব কটি শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এর আগে বোর্ডগুলোতে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা সম্পন্ন হতো।
সোমবার (২২ জুন) দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু সাধারণ বোর্ডগুলোই নয়, বরং আগামীতে মাদ্রাসা এবং সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের যেসব বিষয়ে মিল রয়েছে, সেগুলোতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হবে। মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে এতে কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রসঙ্গে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতের বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং এ বিষয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মুহূর্তে এক লাফে জিডিপির ৫ শতাংশ বাজেট নেওয়ার মতো সক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের না থাকায়, ধাপে ধাপে ক্রমান্বয়ে এই বাজেট বাড়ানো হবে। বর্তমানে আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিলেবাস ও কারিকুলামে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে শিশুদের জন্য খেলাধুলা ও নীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলো যুক্ত থাকবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
এর আগে দুপুরের দিকে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পায়রা উড়িয়ে এবং কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের শুভ সূচনা করেন। এরপর শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪৯ জন শিক্ষক ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ এবং ৩ জন প্রথিতযশা শিক্ষককে ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়।



