দেশে পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং কৃষি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমানে ৩ হাজার ৪৫৭টি সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা (সোলার ইরিগেশন) স্থাপন করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই আধুনিক সেচ পাম্পগুলো মাঠপর্যায়ে চালু করা সম্ভব হয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে শেরপুর-২ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরীর টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য জানান।
মন্ত্রী তাঁর জবাবে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো)-এর বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এই সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থাগুলো স্থাপন করা হয়েছে। মূলত মাঠপর্যায়ে কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো, সেচ কাজে জেনারেটরের ডিজেলের ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস এবং টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সোলার সেচ পাম্প স্থাপনে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শেরপুর অঞ্চলের অগ্রগতি তুলে ধরে ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতায় শেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অধীনে ‘সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচ (২য় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় ইতোমধ্যে দুটি সোলার সেচ পাম্প সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শেরপুর জেলার কৃষকদের সেচ সুবিধা আরও বেশি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমানে আরও ৩১টি সোলার সেচ পাম্প স্থাপনের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তাছাড়া মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কৃষিখাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং টেকসই সেচ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



