অনলাইন জুয়া ও ম্যাচ ফিক্সিং রোধে কঠোর সাজার বিধান, সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ উত্থাপন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিস্তার রোধে জাতীয় সংসদে কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন একটি বিল আনা হয়েছে। ব্রিটিশ আমলের পুরোনো ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করে যুগোপযোগী ‘জুয়া প্রতিরোধ’ আইন করতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’ পেশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদের অধিবেশনে উত্থাপন করেন। বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত এই নতুন আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি (বেটিং), ম্যাচ ফিক্সিং কিংবা স্পট ফিক্সিংসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এসব অপরাধের ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী বিলে মোট ১৪ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে উল্লেখিত দণ্ডের বিবরণ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রচলিত সাধারণ জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তিনি দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অন্যদিকে, আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যমে অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার (রিমোট গ্যাম্বলিং) সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তার সাজা হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।

তাছাড়া বেটিং ও খেলাধুলার ফিক্সিং সংক্রান্ত অপরাধের জন্য আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। কেউ অনলাইন বেটিং বা বাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটে বহুল আলোচিত ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তার সাজা হবে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড।