সমাধানের সুনির্দিষ্ট ঘোষণার পরও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত, ইন্ধনের আশঙ্কা সচেতন মহলের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বৈরী আবহাওয়া ও প্রশ্নপত্রের অসঙ্গতি নিয়ে তৈরি হওয়া সব জটিলতার সুনির্দিষ্ট সমাধান সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়ার পরও পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ভুল প্রশ্নের পূর্ণ নম্বর প্রদান, দায়ী ব্যক্তিদের বরখাস্তকরণ এবং দুর্যোগে বঞ্চিতদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি ঘোষণার পরও শিক্ষার্থীদের এই কর্মসূচি জারি রাখা নিয়ে সচেতন মহলে এখন নানামুখী প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রক্রিয়ার কথা বিবেচনা করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভারী বর্ষণের কারণে ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে, সোমবারের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দুটি প্রশ্নে মারাত্মক ত্রুটি পরিলক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সায়েন্সল্যাবসহ বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

এই সংকটের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অনিবার্য কারণে যারা কোনো বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি, তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া বিষয়ের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এছাড়া পদার্থবিজ্ঞানের ভুল প্রশ্ন দুটিতে সবাইকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়া হবে এবং ভুল প্রশ্ন প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মন্ত্রীর একটি মন্তব্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রেক্ষিতে সংসদে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে আঘাত করতে কিছু বলেননি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্র পরিবর্তন বা পরীক্ষা স্থগিতের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের অনাকাঙ্ক্ষিত ছবি দিয়ে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক উসকানি ছড়ানো গণ-আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

সব ধরনের শিক্ষার্থীবান্ধব ও যৌক্তিক দাবি পূরণের পরও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ও সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ইন্ধন বা উসকানি রয়েছে কিনা, তা সরকারকে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের সচেতন মহল।