বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আরও জোরদার হবে অভিযান: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন এবং নির্ধারিত কোর্স সম্পূর্ণ না করার কারণে দেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) একটি বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় বিনা প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি রোধে বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করছে সরকার। এই অনিয়ম প্রতিরোধে চলমান প্রশাসনিক অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২ এর সরকারি দলের সদস্য শিরীন সুলতানার বিধি-৭১ এর আওতায় উত্থাপিত একটি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা জানান।

এর আগে আলোচনার শুরুতে সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা বলেন, দেশের অনেক মানুষ চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে কেবল ফার্মেসির বিক্রয়কর্মীদের কথায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগীরা নির্ধারিত পূর্ণ কোর্স শেষ না করায় জীবাণু পুরোপুরি ধ্বংস হয় না, যার ফলে শরীরে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এতে সাধারণ সংক্রমণও একপর্যায়ে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে উল্লেখ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষিত এই বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোনো ডিসপেনসারি বা ফার্মেসি যাতে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করতে না পারে, সেজন্য দেশে সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে এবং এটি নিয়মিত মোবাইল কোর্টের আওতাধীন রয়েছে। পাশাপাশি নকল ওষুধ বিক্রি বন্ধে দেশের প্রতিটি উপজেলা ও শহরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি চলছে। এ ধরনের অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও জরিমানার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনস্বার্থে এসব অনিয়ম প্রতিরোধে কাজ শুরু করেছে। এরই মধ্যে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি ওষুধ প্রস্তুতকারী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে নকল ওষুুধ তৈরির কারখানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে নকল ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার বন্ধে আইনি প্রয়োগ আরও কঠোর করা হবে।