চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাকবলিত কিছু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ভেসে উঠছে পাহাড়ি ঢল ও সমুদ্রের জোয়ারের রেখে যাওয়া ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র। বন্যার পানিতে দীর্ঘদিন ডুবে থাকায় উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার কাঁচা মাটির ঘর ভেঙে পড়েছে। নিচু এলাকার ঘরবাড়ি থেকে পানি পুরোপুরি না নামায় এখনো অনেক পরিবার অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) সরেজমিনে বাঁশখালী পৌরসভা এবং বাহারছড়া, ছনুয়া ও গণ্ডামারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, কিছু এলাকায় পানি কমলেও সড়ক ও ঘরবাড়িতে ভাঙনের স্পষ্ট ছাপ রয়ে গেছে। অন্যদিকে ছনুয়া, কাথারিয়া, খানখানাবাদ ও বৈলছড়ীসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো কোমর থেকে হাঁটু পানিতে তলিয়ে আছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্লাবিত এলাকার অনেক পরিবারে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে এবং তারা তীব্র খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন।
উপদেশ ও কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, টানা অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার আউশ ধান, আমন বীজতলা এবং বিভিন্ন শীতকালীন সবজির ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। পশ্চিম গণ্ডামারা লবণ সমিতির দেওয়া তথ্য মতে, শুধু গণ্ডামারা এলাকার মৎস্য ঘের প্লাবিত থাকায় চাষিদের প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পুরো উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার পুকুর এবং ৩১০টি চিংড়ি ঘের তলিয়ে যাওয়ায় মৎস্য ও কৃষি খাতে সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় পানি কমতে থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকায় ১২০ মেট্রিক টন চাল এবং 6 হাজার পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।



