পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধ ও অর্জিত গণতন্ত্রকে টেকসই করতে সব ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী অপশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধারাবাহিক ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক পরিচয় ভুলে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে একটি অখণ্ড ‘ফ্যাসিবাদ বনাম বাংলাদেশ’ মেরুকরণ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল। তবে দুই বছর পেরিয়ে সেই ঐক্যের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত দূরত্ব ও শিথিলতা দেখা যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক চর্চায় একে অপরের প্রতি তর্ক-বিতর্ক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ সমালোচনা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অশালীন আচরণ এড়িয়ে ভিন্নমতকে সম্মান জানিয়ে পলাতক ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান প্রতিহত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে গণমানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফসল আখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়; এই অভ্যুত্থানের প্রকৃত নায়ক দেশের সকল স্তরের জনগণ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মতো চব্বিশের চেতনাও জাতীয় ইতিহাসে চির অমলিন হয়ে থাকবে। অতীতে একটি নির্দিষ্ট দল মুক্তিযুদ্ধকে এককভাবে কুক্ষিগত করতে গিয়ে যেভাবে জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে, সেই ভুল থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের শাসনকালসহ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সকল গুম, খুন ও গণহত্যার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।