শেখ হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্টের নজির নেই: রুহুল কবির রিজভী

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতেও শেখ হাসিনা দ্বিধা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, জনগণের ওপর অত্যাচার চালিয়ে ও রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে ক্ষমতায় থাকাই ছিল তার একমাত্র লক্ষ্য।

রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাইয়ের চেতনা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রিজভী তাঁর বক্তব্যে অতীতের পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে বলেন, বিগত ১৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় ভিন্নমতের কোনো সুযোগ ছিল না। স্বৈরাচারী শাসনের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুলের চেম্বারে ভাঙচুর চালানোসহ বহু শিক্ষকের চাকরি কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সঞ্চিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। পতিত স্বৈরাচারের রাজনীতিতে পুনরায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো ও সমাজ তৈরি করতে না পারলে ভিন্ন পথ ধরে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঘটতে পারে।

সাবেক সরকারের আমলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংক লুটপাট, রাজকোষ শূন্য করা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। একই সাথে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পরীক্ষায় না লিখেও জিপিএ-৫ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নাজমুল হোসাইন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।