দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭.৯ শতাংশে উন্নীত: আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার বর্তমানে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ‘অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫’-এর তথ্যের বরাতে তিনি জানান, এই পরিসংখ্যান দেশের বিগত বছরগুলোর সাক্ষরতা প্রসারে একটি বড় ধরনের অগ্রগতি নির্দেশ করে।

‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৭ শতাংশের ওপর পৌঁছানো আশাব্যঞ্জক হলেও এখনো একটি বড় অংশ মৌলিক শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু, ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও অনগ্রসর প্রাপ্তবয়স্কদের দ্রুত সাক্ষর ও দক্ষ করে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাক্ষরতা কেবল নাম দস্তখত বা বর্ণমালা চেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা কর্মসংস্থান, ডিজিটাল সক্ষমতা ও জীবনদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

প্রয়োগমুখী শিক্ষার সাফল্য তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ জানান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় পরিচালিত প্রশিক্ষণে প্রথম ধাপে নিবন্ধিতদের মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯২.৪৭ শতাংশ শিক্ষার্থী স্থায়ী চাকরি, শোভন কাজে শিক্ষানবীশ বা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন।

অধিকন্তু, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিতদের স্বাবলম্বী করে দেশকে সম্পূর্ণ নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘ইচ ওয়ান টিচ ওয়ান’ মডেলের আলোকে ‘অ্যাডাল্ট অ্যান্ড ফাংশনাল লিটারেসি ফর অ্যাবিলিটি এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (আলফা)’ গ্রহণের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।