শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে সরকারি ওষুধ পাচারের অভিযোগে দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে হাসপাতালের ময়লা বহনকারী ভ্যানগাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ বাইরে পাচারের চেষ্টার সময় এই ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন তুবেল হরিজন (৩৫), যিনি পরিচ্ছন্ন কর্মী হিসেবে কর্মরত এবং ইবাদুল মিয়া (৫৫), যিনি ডোমের সহকারী।
হাসপাতালে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা জানান, ময়লা বহনকারী একটি ভ্যান হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় সন্দেহ হয়। ভ্যানটি তল্লাশির জন্য থামানো হলে প্রথমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরবর্তীতে ভ্যানগাড়ির ভেতরে থাকা একটি বস্তা খুলে দেখা যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ লুকানো আছে। উদ্ধার করা ওষুধের মধ্যে প্রায় ৯ হাজার পিস ভিটামিন ট্যাবলেট, সিরিঞ্জ এবং সরকারি সিলযুক্ত অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রী ছিল।
আনসার সদস্যের খবরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওষুধসহ দুই পরিচ্ছন্ন কর্মীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তুবেল হরিজন জানান যে, হাসপাতালের ফার্মেসিতে কর্মরত বিকাশ কুমার নামের এক ব্যক্তি তাদের এসব ওষুধ বাইরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মিতু আক্তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আসলেই একটি ভয়ংকর ঘটনা। তারা কতদিন ধরে এই অবৈধ কাজ করে আসছেন, সেটি দেখতে হবে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করব এবং এর মাধ্যমে মূল হোতাদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি ওষুধ পাচারের এই ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।



