ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় দেওয়া এই প্রতিক্রিয়ায় তিনি মন্তব্য করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ঘোষণায় দেশের জনগণ আশ্বস্ত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার বাস্তবায়ন হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি ‘বড় ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে বিএনপি এই আশা প্রকাশ করেছে যে, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, অবাধ ও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে একযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদান করেন এবং এর মাধ্যমেই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু হয়।
সিইসি তাঁর ভাষণে জানান, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ (বৃহস্পতিবার) ৩০০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫-এর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি এবং কমিশনে দায়েরকৃত আপিল নিষ্পত্তি হবে ১২ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই প্রচারণা চলবে।
তফসিল ঘোষণার পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসও নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “এই তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অতিক্রম করল।”



