আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেছেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ার পরও জনগণের মধ্যে এটি নিয়ে যে সংশয় বিরাজ করছে, তা দেশের জন্য এক অশুভ সংকেত। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা আকরম খাঁ হলে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ গণতন্ত্র পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহান বিজয় দিবস ও জিয়াউর রহমান এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এই সভায় আব্দুস সালাম অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অস্পষ্ট ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জনগণের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের তফসিল (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ঘোষণার পরও মানুষ নিশ্চিত হতে পারছে না যে নির্বাচন আদৌ হবে কি না। এটি শুভ লক্ষণ নয়।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর দেশে জনগণের কোনো অধিকার ছিল না এবং ক্ষমতা নির্ধারিত হতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ইচ্ছায়। এই সংকট থেকে উত্তরণে বিএনপি একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার বিকল্প নেই।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, প্রতিটি জাতীয় সংকটে জিয়াউর রহমান যেভাবে ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন, বর্তমানে তারেক রহমান সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখছেন। তারেক রহমান বর্তমানে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও তিনি সভায় জানান।
আব্দুস সালাম দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দেশে নতুন বিনিয়োগ নেই, বেকারত্ব বাড়ছে এবং মধ্যবিত্তরা নিম্নবিত্তে পরিণত হচ্ছে।” এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা যে মতবাদই প্রতিষ্ঠা করতে চান না কেন, আগে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হতে হবে। এরপর বিজয়ী হয়ে আপনারা আপনাদের আদর্শ অনুযায়ী কাজ করতে পারেন।”
বাংলাদেশ গণতন্ত্র পরিষদের সভাপতি মুক্তার আখন্দের সভাপতিত্বে এই সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারাও বক্তব্য রাখেন।



