আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর মাই কান্ট্রি: তারেক রহমান

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে এক বীরোচিত পরিবেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট (পূর্বাচল) এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা সমাবেশে তিনি উপস্থিত হন। লন্ডন থেকে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করে এলেও তাঁর চোখে-মুখে ক্লান্তির কোনো ছাপ ছিল না। বিমানবন্দর থেকে সভাস্থল পর্যন্ত পুরো পথ তিনি বাসে দাঁড়িয়ে রাস্তার দুই পাশে অপেক্ষমাণ লাখো নেতাকর্মীর অভিবাদনের জবাব দেন।

বিকেল নাগাদ সংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছে তারেক রহমান কোনো লিখিত স্ক্রিপ্ট ছাড়াই টানা ১৬ মিনিট এক তেজস্বী ভাষণ প্রদান করেন। সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান তাঁর ভাষণে আমেরিকার কিংবদন্তি অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক উক্তির অনুকরণে ঘোষণা করেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি, ফর মাই কান্ট্রি’ (আমার দেশের মানুষের জন্য, আমার দেশের জন্য আমার একটি পরিকল্পনা আছে)।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই পরিকল্পনা ব্যক্তিগত ক্ষমতার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। তারেক রহমান বলেন, “এই পরিকল্পনা দেশের মানুষের স্বার্থে, উন্নয়নের জন্য এবং ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য। এটি বাস্তবায়ন করতে দেশের গণতন্ত্রকামী সব মানুষের সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আপনারা যদি পাশে থাকেন, তবেই আমরা এই পরিকল্পনা সফল করতে পারব।”

একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ; যেখানে মানুষ ঘর থেকে নিরাপদে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরে আসার নিশ্চয়তা পাবে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মানুষ এখন তাদের কথা বলার অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং মেধা অনুযায়ী ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চায়।

বক্তৃতার শুরুতে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো স্মরণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ৭৫-এর সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবকে সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার।

তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়। সংবর্ধনা মঞ্চ ছাড়িয়ে জনস্রোত কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত হয়ে পড়েছিল, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ জোট শরিক দলগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *