ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভাবনীয় মোড় এনে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দেশটি এখন থেকে আমেরিকার সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। স্থানীয় সময় শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, একটি নিরাপদ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য ছিল।
শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ভেনেজুয়েলাজুড়ে শুরু হয় মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক সামরিক তৎপরতা। রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা ও আরাগুয়ার মতো কৌশলগত শহরগুলোতে বৃষ্টির মতো মার্কিন মিসাইল আছড়ে পড়ে। অন্তত সাতটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা শহর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ভয়াবহ ধোঁয়া আর অন্ধকারের মাঝেই দক্ষিণ কারাকাসের প্রধান সামরিক ঘাঁটিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো মার্কিন বাহিনীর দখলে চলে যায়।
পুরো ঘটনাপ্রবাহ পরিষ্কার হয় যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাদুরো পতনের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, এক দুঃসাহসিক কমান্ডো অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তাদের নিজ বাসভবন থেকেই আটক করে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগন এ বিষয়ে এখনো মুখ না খুললেও হোয়াইট হাউস একে মাদক পাচার ও অবৈধ অভিবাসন দমনের একটি মহৎ মিশন হিসেবে তুলে ধরছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোকে হটানোর এই লড়াইয়ের পেছনে মাদক ছাড়াও ভেনেজুয়েলার ‘কালো সোনা’ বা তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি বড় লক্ষ্য রয়েছে। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ১৮২৩ সালের ‘মনরো নীতি’র আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্প স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, লাতিন আমেরিকায় চীন, রাশিয়া কিংবা ইরানের মতো বহিঃশক্তির কোনো স্থান নেই। ভেনেজুয়েলার সম্পদকে স্বৈরাচারমুক্ত করে বৈশ্বিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত করাই এই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
মাদুরোর একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার। সাময়িকভাবে কারাকাসে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করলেও ট্রাম্প প্রশাসনের বিশ্বাস, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির এই জয় পুরো পশ্চিম গোলার্ধের ভূ-রাজনীতি চিরতরে বদলে দেবে। এখন বিশ্ববাসীর নজর ভেনেজুয়েলার পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে।



