যুদ্ধ সংঘাতের শঙ্কার মাঝে ইরান ত্যাগের নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইরানে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের অবিলম্বে দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সতর্কতা জারি করে। একই দিনে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকি, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিধিনিষেধ এবং পরিবহন সংযোগের অনিশ্চয়তার কারণে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে দ্রুত ইরান ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই দীর্ঘ ৯ মাস বিরতির পর তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হচ্ছে। ওমান সময় শুক্রবার সকাল ১০টায় এই পরমাণু আলোচনা শুরু হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লেও অন্যদিকে উভয় পক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। ওমানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনাকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যেই মাস্কাটে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসুক। তবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আলোচনা কেবল তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক সংকটের মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইরানে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো আক্রমণের জবাবে তারা শক্তি প্রয়োগ করবে এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ ইসরাইলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

আজকের এই বৈঠক থেকে কোনো কার্যকরী কাঠামো তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। তবে দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে আলোচনার সফলতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *