সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা উপশমে আদা কতটা কার্যকর?

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ঠান্ডা লাগলে গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা কাশির যন্ত্রণায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঘরোয়া সমাধান হিসেবে আদার ব্যবহার চলে আসছে। বিশেষ করে আদা চা বা আদা-মধুর মিশ্রণ আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে আধুনিক বিজ্ঞান আদার কার্যকারিতা সম্পর্কে কী বলছে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, আদা একাই সর্দি-কাশি সম্পূর্ণ নির্মূল করতে না পারলেও এটি প্রতিরোধে এবং উপসর্গ কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।

বিজ্ঞানীদের মতে, আদাতে থাকা ‘জিঞ্জেরল’ ও ‘শোগাওল’ নামক যৌগগুলো একে প্রাকৃতিক ঔষধি গুণসম্পন্ন করে তুলেছে। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, আদা ও রসুন একসঙ্গে ব্যবহার করলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা বহুগুণ বেড়ে যায়। ল্যাব গবেষণায় আদার শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা শরীরে জীবাণুর বংশবিস্তার রোধে সহায়তা করে।

গলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে আদা বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি গলার পেছনের অংশের প্রদাহ বা ফ্যারিঞ্জাইটিস কমিয়ে দ্রুত গলাব্যথা উপশম করে। এ ছাড়া আদা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীরের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে শুকনো আদায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট তুলনামূলক বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত থাকে।

চিকিৎসকরা মনে করেন, খাবার ও পানীয় হিসেবে আদা সম্পূর্ণ নিরাপদ। আদার সাথে মধুর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল গুণ যুক্ত হলে তা শরীরের জন্য আরও শক্তিশালী রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। তবে সর্দি-কাশি যদি গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী আকার ধারণ করে, সেক্ষেত্রে ঘরোয়া প্রতিকারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

আদা ব্যবহারের কয়েকটি সহজ উপায়: সর্দি বা গলাব্যথায় আদার ঝাঁজালো স্বাদ ও উষ্ণ অনুভূতি পেতে বিভিন্নভাবে এটি গ্রহণ করা যায়। যেমন— গরম পানিতে আদা ও লেবু মিশিয়ে চা তৈরি করে, কাঁচা আদার ছোট টুকরো চিবিয়ে, রান্না কিংবা স্যুপে যোগ করে অথবা জুস ও স্মুদির সঙ্গে মিশিয়ে। এমনকি নারিকেল পানির সঙ্গে ব্লেন্ড করে ‘আদা শট’ হিসেবেও এটি পান করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *