১১ দলীয় জোট ছেড়ে ২৬৮ আসনে একক নির্বাচনের ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নির্বাচনি ঐক্য থেকে বেরিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী নির্বাচনে দলটি ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, তাদের প্রার্থীরা শুরুতে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে দুটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হলেও বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী এখনো নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো প্রার্থীই তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন।

জোট ত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামপন্থি জনতার আবেগের সঙ্গে তারা প্রতারণা করতে পারেন না। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইসলামি শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা থাকলেও শেষ পর্যায়ে এসে মূল লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গতকাল ১১ দলীয় জোটের সংবাদ সম্মেলনে আসন বণ্টনের পর তারা লক্ষ্য করেছেন যে, তাদের দীর্ঘদিনের আদর্শিক পথ চলা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, জামায়াত একটি বড় শক্তি হলেও আদর্শিকভাবে ইসলামী আন্দোলন কারো চেয়ে দুর্বল নয়। তিনি জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ডা. শফিকুর রহমান খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন এবং শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠা করবেন না।

গাজী আতাউর রহমান আরও বলেন, প্রধান শক্তিগুলোই যদি ইসলামের সুমহান আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে ভিন্ন দিকে চলে যায়, তবে ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের কর্মীদের প্রত্যাশা ও ইসলামের লক্ষ্য বজায় রাখতেই তারা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসলামী আন্দোলনের এই ঘোষণার ফলে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত মাঠের লড়াইয়ে এই সিদ্ধান্ত কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *