প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এবং আইনি সহায়তা বিষয়ক উপ-কমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম মূসা। সরকারের পক্ষ থেকে বৈঠকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এনসিপি নেতৃবৃন্দ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগের কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানান। তারা নির্বাচনে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা জানান যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করতে এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
এনসিপি নেতৃবৃন্দের উদ্বেগের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা পরামর্শ পাওয়া মাত্রই সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেউ যেন আইন অমান্য করতে না পারে সে বিষয়ে সরকার কঠোর থাকবে। মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে রদবদলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে কোনো পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এটি দেশ পাল্টে দেওয়ার নির্বাচন, তাই একে সুষ্ঠু হতেই হবে।”
নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, জানুয়ারির মধ্যেই অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হবে।
গণভোটের প্রচারণা নিয়ে ড. ইউনূস বলেন, সরকার আইনসম্মতভাবেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এর প্রয়োজনীয়তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছে। তিনি নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে নির্বাচন কমিশন ও সকল রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।



