বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা তাঁর দলের লোকদের ফেলে রেখে দিল্লিতে চলে গেছেন। যারা অন্যায় করেছে তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, তবে যারা কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নয়, এমন সাধারণ মানুষকে বিএনপি বুকে টেনে নেবে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের মোলানী বাজারে আয়োজিত এক নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকলেও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের একটি প্রতিপক্ষ দল মাঠে রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি চারণ করে তিনি বলেন, সে সময় এই দলটি অত্যন্ত নগণ্য ভোট পেয়েছিল। বিএনপিকে একটি পরীক্ষিত দল হিসেবে দাবি করে তিনি স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তিনি দীর্ঘকাল ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন এবং কখনো তাদের ছেড়ে যাননি।
বিগত নির্বাচনগুলোর সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি, কারণ সব ভোট ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা’ নিয়ে গিয়েছিল। তবে এবার একটি সঠিক ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন, যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বাধীনভাবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন।
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, নির্বাচিত হলে ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। বক্তৃতার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “এটা আমার জীবনের শেষ ভোট, শেষ নির্বাচন।” এই শেষ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে আবারও জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
গণসংযোগকালে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ভোটারদের মাঝে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি বিকেলের এই প্রচার কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।



