স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ফ্যাসিবাদের করুণ পরিণতির কথা মাথায় রেখে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনা বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ১৬ বছরে অস্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের বীজ বপন করা হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রের পুরো যন্ত্র পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রক্রিয়ার মদদদাতা ও সহায়তাকারীদের অনেকে আজ চাকরিচ্যুত, পলাতক বা কারাবন্দি হয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে এই বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুধাবন করে সবাইকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপদেষ্টা জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে একটি ‘কেন্দ্রীয় আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল’ গঠন করা হয়েছে। এছাড়া এবারের নির্বাচনে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা হবে।
উপদেষ্টা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে প্রিজাইডিং অফিসারসহ সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার (সিসিটিভি, ড্রোন, বডি ওর্ন ক্যামেরা) এবং বাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের দ্রুত পরিচয়পত্র প্রদান এবং ভোটকেন্দ্রে তাদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিসহ বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে উপদেষ্টা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান এবং একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



