ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সংসদ ভবনে এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেও, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্যরা একই দিনে দুটি আলাদা শপথ গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় শপথটি ছিল নবগঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন প্রথমে সংসদ সদস্যদের সাধারণ শপথ পাঠ করান। এরপর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ করানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। কিন্তু এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেন যে, তাদের দলের সদস্যরা এই দ্বিতীয় শপথে অংশ নেবেন না।
সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের হাতে একটি নীল ও সাদা রঙের ফর্ম দেখিয়ে বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বর্তমানে সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে এ ধরনের কোনো শপথের ফরম নেই। তাই এটি আগে সংসদে গৃহীত হতে হবে।” তিনি আরও জানান, দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং বিএনপি সংবিধান মেনেই পথ চলতে চায়।
বিএনপি এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা এবং এনসিপির সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথবাক্যে বলা হয়, “আমি সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে সশ্রদ্ধ চিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি তাহা আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব। আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং পরিষদ সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় আসার পর এই পরিষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।



