গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর ফলাফল বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেন। আবেদনে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল বাতিলেরও আরজি জানানো হয়েছে।
রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন সচিবকে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে। উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির ওই গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ জন ‘না’ এর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, যার ফলে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়।
এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ৫১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপি সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২৯১টি আসনে প্রার্থী দিয়ে দলটির কোনো প্রার্থীই জামানত হারাননি। অন্যদিকে, বিরোধী দলের আসনে বসতে যাওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন এবং নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারিয়েছেন।
তবে নির্বাচনের সবচেয়ে শোচনীয় ফল হয়েছে বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির। ১৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও দলটির মাত্র ৫ জন প্রার্থী নিজেদের জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন, বাকি ১৯৩ জনই নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বাসদ ও নাগরিক ঐক্যসহ অন্যান্য বেশিরভাগ দলের প্রার্থীরাও নিজেদের জামানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন।



