ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও নবগঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সংসদ ভবনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কেবল এমপি হিসেবে শপথ নিলেও প্রস্তাবিত এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান সংবিধানে এই পরিষদের শপথ নেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই।
শপথ অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হইনি এবং সংবিধানে এখনো এটি ধারণ করা হয়নি।” তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধানের তৃতীয় তফশিলে এই পরিষদের শপথের কোনো নির্দিষ্ট ফরম নেই। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এটি সংসদে গৃহীত হওয়ার পরই শপথের বিধান করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ৭৭ জন সদস্য সংসদ সদস্যের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও দ্বৈত শপথ নিয়েছেন। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী, পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি বা কোরাম প্রয়োজন। জামায়াত ও এনসিপি সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের ফলে তাত্ত্বিকভাবে তারা চাইলে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এনসিপি। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক মাধ্যমে একে ‘গণভোটের জনরায়ের সাথে প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর প্রতিবাদে এনসিপি নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করার ঘোষণা দেয়। এছাড়া দলটির নেতা সারজিস আলমও বিষয়টিকে ‘অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে গাদ্দারি’ বলে মন্তব্য করেছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও বিএনপির একটি শপথ নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আইনি জটিলতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সংবিধানে গণভোটের কোনো বিধান না থাকায় রাষ্ট্রপতির এই আদেশ ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যেই গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করছেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা এখন জনগণের সমর্থন পাবে না, কারণ মানুষ স্থিতিশীলতা চায়।
বিএনপি বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা ক্ষমতায় যাওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং ইশতেহারের ম্যান্ডেট অনুযায়ী সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করবে।



