মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা দ্বিধাগ্রস্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

২৫ মার্চ কালরাতে নিহত সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি দিনটিকে জাতীয় জীবনের সবচেয়ে নৃশংস ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযানের নামে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত মুক্তিকামী দেশবাসীর ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায়। মধ্যরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, তৎকালীন ইপিআর-এর সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও অগণিত নিরপরাধ মানুষ এই গণহত্যার নির্মম শিকার হন। এই হত্যাযজ্ঞে পুরো জাতি বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, ওই সময় ২৫ মার্চের দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্রোহ ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। এর অব্যবহিত পর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তদানীন্তন মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা-বিভ্রান্ত ও দ্বিধাগ্রস্ত পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে, অসীম সাহসী করে তোলে এবং সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ও প্রাণ উৎসর্গ করতে উজ্জীবিত করে। এর মাধ্যমেই সশস্ত্র প্রতিরোধ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং দীর্ঘ ৯ মাস পর গৌরবময় বিজয় অর্জিত হয়।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে একদিকে ইতিহাসের এই নিষ্ঠুর বর্বরতা এবং অন্যদিকে জাতি হিসেবে বীরত্ব ও গৌরবগাঁথা সম্পর্কে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। তাছাড়া দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা পেয়েছে এবং জনরায়ে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন। বর্তমানে সরকার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা— যেখানে বৈষম্য, বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, অন্যায় ও অবিচার থাকবে না। রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে শহীদদের এই প্রত্যাশা পূরণে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে সমবেতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং ২৫ মার্চসহ দেশের সব শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *