বাগেরহাটের চিতলমারীতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

বাগেরহাটের চিতলমারীতে বাড়িতে ঢুকে আমির হামজা মুন্সী (২৩) নামের এক কলেজছাত্রকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে উপজেলার শিবপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত আমির হামজা মুন্সী শিবপুর গ্রামের রুহুল আমিন মুন্সীর ছেলে। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং পড়াশোনার পাশাপাশি খুলনার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে বাবা ও চাচার সঙ্গে কথা বলছিলেন আমির হামজা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট পরিহিত একদল যুবক বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা নিজেদের ‘পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে হামজাকে ধাওয়া করে। হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে পাশের খালের পাড়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁর মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা রুহুল আমিন মুন্সী বলেন, ‘১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে আমার ছেলেকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’ নিহতের চাচা বাচ্চু মুন্সী জানান, খুলনার কোনো পূর্ব শত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তাঁরা সন্দেহ করছেন।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও অভিযানে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, জেলা পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল যৌথভাবে ঘাতকদের শনাক্তে কাজ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ মার্চ রাতে পার্শ্ববর্তী মোল্লাহাট উপজেলায় সোহাগ শেখ নামে এক ব্যবসায়ীকে এবং ৭ মার্চ রাতে তাঁর কর্মচারী নূর ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। একের পর এক এই গুলির ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *