ইরান যুদ্ধের এক সপ্তাহ: ট্রাম্পের জন্য বাড়ছে ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের শঙ্কা

✍️ প্রতিবেদক: দীপ্ত বাংলাদেশ নিউজ ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর এক সপ্তাহ পার হতেই পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ এখন নতুন নতুন ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়া এবং ইরানের প্রধান সামরিক স্থাপনাগুলোতে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির পরও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং লেবাননের হিজবুল্লাহর নতুন করে হামলায় জড়িয়ে পড়া এই সংঘাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিহিত করছেন, যা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক অভিযান।

জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষক লরা ব্লুমেনফেল্ড সতর্ক করে বলেছেন, “ইরান যুদ্ধ অত্যন্ত জটিল এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।” তাঁর মতে, এই সংঘাত কেবল মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাই নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেনাদের কফিন দেশে ফিরতে শুরু করলে ট্রাম্পের ‘মাগা’ (MAGA) জনসমর্থন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

সামরিক কৌশলের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস মন্তব্য করেছেন যে, এই অভিযানের সামরিক দিক সফল মনে হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পরিকল্পনা যথেষ্ট গভীর নয়। ট্রাম্প প্রশাসন হয়তো আশা করেছিল ইরান দ্রুত আত্মসমর্পণ করবে, কিন্তু ইরানের শক্তিশালী সামরিক কাঠামো একে অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রমাণ করছে।

বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে কার্যত অচল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা বৈশ্বিক মন্দার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা প্রয়োজনে আরও বেশি সময় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলেও, এর দীর্ঘমেয়াদী ভার যুক্তরাষ্ট্র কতটা সইতে পারবে, তা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *